নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় চকউলী বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলী বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, তথ্য গোপন করে এমপিও সুবিধা গ্রহণ, নিয়োগের নামে অর্থ আদায় এবং প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল মান্নানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা পরিদর্শক মকবুলার রহমান ও অডিটর সিরাজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ১ আগস্ট বিধিবহির্ভূতভাবে সহকারী শিক্ষক এবং পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান নজরুল ইসলাম। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এমপিওভুক্তির তথ্য গোপন করে ওই সময় থেকে সরকারি বেতন-ভাতা হিসেবে ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫১ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১ লাখ ২০ হাজার ৮০৭ টাকা ফেরতযোগ্য বলে মত দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ‘ডোনেশন’ নেওয়া এবং চারজন শিক্ষকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর তিনজনের টাকা ফেরত না দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জ, বেতন ও কোচিং ফি বাবদ সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন তহবিল থেকে উত্তোলনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। পুকুর ইজারা, পুরোনো আসবাবপত্র এবং আম ও অন্যান্য গাছ বিক্রি করে পাওয়া ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকাও প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অনিয়মের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এদিকে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কলেজে উপস্থিত না থেকেও তিনি ইএফটির মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল উন্নত করার লক্ষ্যে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম কাজল, অভিভাবক সদস্য দেলোয়ার হোসেনসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে রোস্তম আলী, এমদাদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, ময়েজ উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, গিয়াস উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তদন্তের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.