
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং পরে ভুয়া কার্ড দেওয়ার অভিযোগে আটক জনি আক্তার জুঁই (২৯) লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আটক করার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
লিখিত আপোষনামা সূত্রে জানা যায়, জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা নেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত জনি আক্তার উপজেলার ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার ভীমপুর গ্রামের ১৩ জনের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে জনি আক্তার মোট ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেন। কার্ড করে দিতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান জনি। পরে ২০ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এ সময় তাদের মধ্যে তিনজনকে ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে জনি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানান এবং ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় তহমিনা ও রেনুকা বাদী হয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তার জুঁইকে আটক করে পুলিশ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জনি আক্তার বলেন, তার দেবরের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। সেই বিরোধের জেরে চক্রান্ত করে ওই নারীদের দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন।
এদিকে বক্তব্য নেওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি নিজেও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘আটকের পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে ওই নারী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.