শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ‘মিনি সুন্দরবন’ ঘিরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে। নদীর দুই পাড়ে জন্ম নেওয়া সুন্দরী, কেওড়া, গরান ও গোলগাছের পাশাপাশি খাঁচায় মাছ চাষও স্থানীয়দের জন্য তৈরি করছে আয়ের নতুন সুযোগ। এর মধ্যে বিশেষ করে গোলগাছের ফল ও তা থেকে গুড় তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। দূর থেকে তাকালে নদীর দুই পাড়জুড়ে চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ।
এসব গাছের মধ্যে গোলগাছের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে গাছগুলোতে ঝুলছে গোলফলের কাদি। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এই ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে শহরাঞ্চলেও গোলফলের কদর বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
শুধু ফল বিক্রিই নয়, গোলফল থেকে রস সংগ্রহ করে মানসম্মত গুড় তৈরিরও সুযোগ রয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় গোলগাছের রস থেকে গুড় তৈরি করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। চিত্রাপাড়ে গোলগাছের আধিক্য থাকায় এখানেও বাণিজ্যিকভাবে গোলের গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল বলেন, “গোলফল খেতে খুবই সুস্বাদু। আমি মিনি সুন্দরবন এলাকা থেকে গোলফল কিনে বাসায় নিয়ে খেয়েছি। গোলগাছ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে গুড় তৈরি করা যায়। পাশাপাশি গোলপাতা দিয়ে ঘর তৈরি করলে বসবাসে আরাম পাওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই ঘর তৈরিতে গোলপাতার ব্যবহার রয়েছে। গোলগাছকে কাজে লাগিয়ে নানাভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে।”
বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির বলেন, “চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনাময় অনেক দিক রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছপালা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি গোলগাছ থেকে গুড় তৈরি করাসহ নানাভাবে উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে এখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, “গোলফল অনেকের কাছে খুবই প্রিয় খাবার। তালের মতো এর ভেতরে শাঁস রয়েছে, যা খেতে ভিন্ন ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। গোলফল থেকে খাঁটি রস সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মতভাবে গুড় তৈরি করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ অঞ্চলে কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের গোলের গুড় তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিত্রাপাড়ের কেউ বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় তৈরি করতে চাইলে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।
প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ মিনি সুন্দরবনকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা গেলে গোলফল, গোলের গুড়, গোলপাতা এবং খাঁচায় মাছ চাষ—সব মিলিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.