নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর সাপাহারে হাপানিয়া কে এম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় দুই ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টসহ চারটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। চার পদে মোট ৩৬ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের চুক্তি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন সিরাজী। তবে নিয়োগ বোর্ডের দিন মাদরাসার সভাপতি সামসুল হক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, আগেই অর্থের বিনিময়ে চারজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে নিয়োগ বোর্ডে সভাপতি উপস্থিত না থাকায় পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (পদার্থ), ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (রসায়ন), অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। চারটি পদে মোট ৩৫টি আবেদন জমা পড়ে।
এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে সামিউল ইসলামের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে চিঠি আসে বলে জানা গেছে। চিঠি পাওয়ার পর পরীক্ষার আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন চাকরি প্রার্থীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারটি পদে চারজনের নিয়োগ হতে যাচ্ছে—এমন একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এতে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (পদার্থ) পদে মোছাম্মদ নাহিদা আক্তার, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (রসায়ন) পদে আবুজার গিফারী, অফিস সহায়ক পদে এমরান আলী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মোহাম্মদ সেমাজুলের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে কয়েকজন প্রার্থী পরীক্ষা বর্জন করে প্রশ্ন তোলেন—মাদরাসার সভাপতি উপস্থিত না থাকার পরও কীভাবে নিয়োগ বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়। একই সঙ্গে সভাপতি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় নিয়োগ বোর্ড পরিচালনার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তারা।
অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন সিরাজী বলেন, “ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ১০ লাখ টাকা করে এবং অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৮ লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের খরচ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য এসব টাকা নেওয়া হবে।”
সভাপতি অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “মাদরাসার সভাপতি এসেছিলেন। তবে হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করায় তিনি চলে গেছেন।”
তবে নিয়োগ বোর্ডে সভাপতি অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে—এ বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সামিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদরাসার সভাপতি সামসুল হকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, সভাপতি অনুপস্থিত থাকা এবং আগেই নিয়োগপ্রার্থীদের নাম ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও চাকরিপ্রার্থীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.