নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আবাদপুকুর কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে যান অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা। কলেজে প্রবেশের সময় কয়েকজন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের বাধা উপেক্ষা করে তিনি নিজ কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও হট্টগোল শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষের দাবি, একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে কলেজ মাঠে ফেলে রেখে হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকজন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাকে কলেজ থেকে বের করে দেন। পরে কলেজের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কলেজে যোগদানের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার কলেজে যোগ দিতে যাই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগত আমার কক্ষে ঢুকে হামলা চালায়। তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তারা আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।”
তবে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের অভিযোগ, অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এছাড়া কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর কলেজের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পরে তিনি আদালতে গেলে আদালত তাকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
আবাদপুকুর কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “অধ্যক্ষের ওপর হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাণীনগর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। যতটুকু জানি, ডিগ্রি সেকশন খোলার কথা বলে কয়েকজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। পাওনাদাররা এর আগে একাধিকবার আমার কাছে অভিযোগও করেছিলেন। চাকরিবঞ্চিত ওই ব্যক্তিরাই বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া হোসেন বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর ও তার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করা অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে হামলায় জড়িতদের পরিচয়ও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.