
ভেড়ামারা(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে যৌতুকের দাবিতে সুলোতা দাস ওরফে পূজা দাস (১৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী দীপক দাস, শ্বশুর নীল কুমার দাস ও শাশুড়ি অনিতা রানী পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কাকলিদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুলোতা দাস ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের সনদ দাস ও সীমা দাসের মেয়ে। প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে কাকলিদহ এলাকার নীল কুমার দাসের ছেলে দীপক দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, জামাইকে স্বর্ণের আংটি ও ঘড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পরও আরও যৌতুকের দাবিতে সুলোতার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিভিন্ন সময় তাঁর পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সর্বশেষ আরও তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহতের কাকী ইতি দাস বলেন, ‘যৌতুক হিসেবে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর আগে তিন লাখ টাকা দেওয়া হলেও নতুন করে টাকা চাওয়া হচ্ছিল। টাকা দিতে না পারায় সুলোতার ওপর নির্যাতন করা হয়।’
নিহতের স্বজন শ্রী উজ্জ্বল দাস বলেন, ‘মাঝেমধ্যে টাকা দেওয়া হয়েছে। মেয়েটির বাবা বিদেশে থাকেন। সুলোতার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।’ এ ঘটনায় মিরপুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
এদিকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুলোতার মরদেহ ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতের আরেক স্বজন শীলা দাসের দিদিমার দাবি, মরদেহ গোসল করানোর সময় সুলোতার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। গলার কাছেও বড় ধরনের আঘাতের দাগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পরিবারের দাবি, মারধরের পর সুলোতা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে সুলোতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং শরীরে থাকা আঘাতের কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.