বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
শরতের নীল আকাশ আর সাদা মেঘের নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য লাল শাপলা। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের কুঁড়ি বিল এখন যেন লাল শাপলার রাজ্য। প্রকৃতির এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী।
স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে এবার বিপুলসংখ্যক লাল শাপলা ফুটেছে। ভোরের কোমল আলোয় পানির ওপর মাথা তুলে থাকা শাপলাগুলো দূর থেকে মনে হয়, সবুজ পাতার ওপর কেউ লাল ফুলের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। পেছনে গারো পাহাড়ের সবুজ রেখা আর সামনে শাপলা ঘেরা জলরাশি—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, অভিভাবক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন কুঁড়ি বিলে। কেউ তীরে দাঁড়িয়ে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্থানীয় নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে ঘুরছেন। নৌকার বৈঠার ছলাৎছল শব্দ, পানির মৃদু ঢেউ আর চারপাশের লাল শাপলা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিলের সৌন্দর্য।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, একসময় কুঁড়ি বিল পদ্ম-শাপলা ও নানা জলজ উদ্ভিদে ভরপুর ছিল। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি ও জলজ ফুলে বিলটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারে পরিণত হতো। সময়ের সঙ্গে বিলের বিভিন্ন অংশে মাছের প্রকল্প গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে যায়। তাই বিলের উত্তরাংশে নতুন করে লাল শাপলার বিস্তার স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ সৃষ্টি করেছে।
শাপলা দেখতে মানুষের আনাগোনায় বদলে গেছে আশপাশের পরিবেশও। দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে চা, ফুচকা, কফিসহ বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী দোকান। এতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝির আয়ও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী বলেন, ‘কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসছেন। নৌকায় ঘুরে ঘুরে শাপলা দেখছেন এবং আনন্দ উপভোগ করছেন। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ বলেন, ‘শাপলা ফুল দেখতে অনেক দর্শনার্থী বিলে ভিড় করছেন। ক্ষণিকের জন্য ঘুরতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যে হারিয়ে যাচ্ছেন তারা। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিলটিকে বাণিজ্যিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, কুঁড়ি বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিরাপদ নৌযান, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি। অপরিকল্পিত স্থাপনা ও অতিরিক্ত মাছের প্রকল্পের কারণে যাতে শাপলার এই বিস্তার হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে গারো পাহাড়ঘেঁষা বকশীগঞ্জের কুঁড়ি বিল হয়ে উঠতে পারে জামালপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.