শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
কৃষিপ্রধান বাগেরহাটের চিতলমারীতে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের সবজি চাষে লাভের সম্ভাবনা থাকায় চারা কিনতে স্থানীয় হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ ফসলি জমিতে ঘের তৈরি করে চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে। এসব ঘেরের পাড়ে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন কৃষকেরা। তবে শীত মৌসুমে আগাম টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি ফুলকপি, পাতাকপি, বেগুন, মরিচ, লাউ, কুমড়া, করলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষও বাড়ছে।
চিত্রা, বলেশ্বর ও মধুমতি নদীবেষ্টিত চিতলমারীর মানুষ কৃষিনির্ভর। ফলে উপজেলার অধিকাংশ জমিই বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ বাড়ায় সবজির চারার চাহিদাও বেড়েছে। ফলে চিতলমারী সদর বাজারের চারা হাটে প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের সড়কের দুই পাশে বসেছে চারা বিক্রির হাট। সেখানে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আগাম সবজির চারার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাকে চারা কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চিতলমারী হাটে চারা বিক্রি করতে আসা নাজিম উদ্দিন, অনুপ ঘরামি, শ্যামল মণ্ডলসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, তাদের বেশি দামে বীজ কিনতে হয়। ফলে কম দামে চারা বিক্রি করা সম্ভব হয় না।
তারা জানান, বর্তমানে এক পোন (৮০টি) টমেটোর চারা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ফুলকপির চারা ৩০০ টাকা, পাতাকপির চারা ২৫০ টাকা, বেগুনের চারা ৮০ টাকা এবং মরিচের চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। চিতলমারীর কৃষকেরা আগাম সবজি চাষে সবসময়ই তৎপর থাকেন। এ কারণে হাটে সবজির চারা কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা সবজি চাষ করে ভালো দাম পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.