নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বিনোদপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুই, কাতলা, সিলভারকার্প, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে একই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগে থানায় অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানা গেছে। ওই মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি ও পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন গভীর রাতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে পুকুরের মাছ মারা গেলেও প্রথমে সেগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরে সোমবার দুপুরের দিকে মাছ গুলো মরে পানিতে ভেসে ওঠে। পুকুরের পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, বিনোদপুর গ্রামের তার সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট সকালে তার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তিনি আব্দুর রাজ্জাক সরদার, বাবুল সরদার, তাহের সরদার, সামসুল আলম, রফিকুল ইসলাম, রিপন ইসলাম, শাহেদ ইসলাম, পারভেজ রহমান, রাসেল ইসলাম ও সেকেন্দার আলীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে টিনের প্রধান ফটক কুপিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে শোকেসের কাঁচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। এ ছাড়া শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৪ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। বাধা দিতে গেলে শহিদুল ইসলামের ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. সাবিনা খানমকে (২৮) ধাক্কা দিয়ে ইটের দেয়ালে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিকার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন শহিদুল। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।
তবে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা। তাদের দাবি, বিবাদমান জমি ও পুকুর নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া পুকুরের অর্ধেক অংশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তারা নিজেদের দখল বুঝে নিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও থানায় একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। যৌথ মালিকানাধীন ওই পুকুরে উভয় পক্ষই মাছ চাষ করেন। তবে তারা কারও বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা পুকুরে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত নন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, আগের ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে কল এবং লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুকুরে মাছ নিধনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.