মফিজুল ইসলাম, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। একই প্রকল্পে যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পেলেও ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ করেছেন কালীগঞ্জের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে শনিবার কালীগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘উই কেয়ার ফেজ-১’ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক সম্প্রসারণের কারণে কালীগঞ্জ বাজারের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন। এসব ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ বাজারে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। নিয়মিত সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলেও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্ছেদের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের জমি ও স্থাপনার মালিকরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেলেও প্রকৃত ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের জীবিকা হারানোর বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে উচ্ছেদ হলে ব্যবসার পুঁজি, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘদিনের আয়ের পথ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অন্যতম অভিযোগ, একই প্রকল্পে দুই জেলার ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’-এর ৮(৩)(ক) ধারা অনুসরণ করে মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, একই প্রকল্প ও একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ঝিনাইদহে কেন একই সুবিধা দেওয়া হবে না?
তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও এলএ শাখায় একাধিকবার আবেদন এবং শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ারও অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে একই আইনের প্রয়োগে দুই জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পার্থক্যের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখা এবং পাওনা পরিশোধের আগে স্থাপনা অপসারণ না করা।
এ ছাড়া অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত মৌজা, দাগ, খতিয়ান ও নোটিশের তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা মহাসড়ক উন্নয়ন বা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন না। তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনগত অধিকার ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, এ সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামবেন তারা। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, এলএ শাখা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.