ফরিদপুর প্রতিনিধি
“শরৎ রানী যেন কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে”—কবি নির্মলেন্দু গুণের পঙ্ক্তির মতোই শরতের শুভ্রতায় সেজেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার চর। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা হাজারো কাশফুল যেন তুলেছে সাদা সমুদ্রের ঢেউ। নীল আকাশ, পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ আর কাশফুলের মিতালিতে পদ্মার চরজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
সদরপুর উপজেলার ২ নম্বর আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে এখন শুভ্রতার বিস্তার। সরেজমিনে দেখা যায়, চরের বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছে ঘন কাশবন। কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও মানুষের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে গেছে কাশফুল। শরতের নীল আকাশের নিচে বাতাসের তালে কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
এই সৌন্দর্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে এখানে সময় কাটাচ্ছেন। কাশবনের মাঝে হাঁটা, ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের মধ্য দিয়ে শরতের এই মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন তারা।
বিশেষ করে বিকেলে কাশবন ধারণ করে ভিন্ন এক রূপ। পশ্চিম আকাশে হেলে পড়া সূর্যের নরম আলো কাশফুলে পড়লে পুরো চরজুড়ে তৈরি হয় প্রশান্তিময় আবহ।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে পদ্মার চরের এই কাশবন চমৎকার একটি জায়গা। প্রকৃতির কাছাকাছি এসে সময় কাটাতে পেরে তারা আনন্দিত।
স্থানীয়রা জানান, বসতি স্থাপন, কৃষিকাজের প্রসার ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে সদরপুরের অনেক এলাকা থেকে আগের মতো কাশবন দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবার নতুন করে দেখা দিয়েছে পদ্মার চরে।
প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার চরের এই কাশবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন অযত্নে কিংবা মানবসৃষ্ট কারণে নষ্ট না হয়। এটি সংরক্ষণ করা গেলে প্রতি শরতেই সদরপুরের পদ্মার চর হয়ে উঠতে পারে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.