মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। চলতি মাসে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩০ শিশু।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। রোগীর চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কিছু ওষুধ-স্যালাইন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের বেশিরভাগই পৌর এলাকার বাসিন্দা। পৌর এলাকার ময়লার ড্রেনগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
হাসপাতালের মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনেরা জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অনেক পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পদ্মনাথপুর গ্রামের লিপি পারভীন, সাতনল খানপুর গ্রামের নার্গিস সুলতানা, বিজয়রামপুর গ্রামের জাকারিয়া ও কৃষবাটি গ্রামের উষারানির স্বজনেরা জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি)’ পরীক্ষা বাইরে থেকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ করে করাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ৮০০ টাকা দামের স্যালাইনসহ প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষা বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদেরও একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কয়েকজন রোগীর স্বজন।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আনিছুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু রোগীর জন্য ‘সিবিসি উইথ প্লাটিলেট’ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রিএজেন্টের (বিকারক) অভাবে বর্তমানে হাসপাতালে এ পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও রিএজেন্ট না থাকায় রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। তবে রোববার থেকে প্লাটিলেট পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু বলেন, জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের ডেঙ্গু নির্ণয়ের সব পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব হচ্ছে না। টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া বা রিকেটসিয়াল রোগ শনাক্তে ‘ট্রিপল অ্যান্টিজেন’ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের তা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ওষুধ ও স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সল বলেন, “৫০ শয্যার বরাদ্দ দিয়েই আমাদের হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। রোগী বাড়ায় স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি নরমাল স্যালাইনের ৫ হাজার পিসের চাহিদা পাঠানো হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৫০০ পিস। তবে সাধ্যমতো রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোগীর চাপ বাড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি থাকায় রোগীদের একটি অংশকে বাইরে থেকে পরীক্ষা ও ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.