নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া কে.এম ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার সামনে হাপানিয়া গ্রামবাসী ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদ্রাসাটিতে চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দীন সিরাজীর পদত্যাগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনঃনিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, চাকরিপ্রত্যাশী আব্দুল কাইয়ুম ও সানাউল ইসলাম। এ সময় চাকরিপ্রত্যাশী, গ্রামবাসী ও সচেতন নাগরিকসহ অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাদ্রাসার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (পদার্থ), ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (রসায়ন), অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদন আহ্বান করা হয়। চারটি পদে মোট ৩৫টি আবেদন জমা পড়ে।
এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ডিজির প্রতিনিধির মনোনয়নসংক্রান্ত চিঠি আসে। চিঠি পাওয়ার পর পরীক্ষার আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারটি পদে কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (পদার্থ) পদে মোছাম্মদ নাহিদা আক্তার, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (রসায়ন) পদে আবুজার গিফারী, অফিস সহায়ক পদে এমরান আলী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মোহাম্মদ সেমাজুলের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ অভিযোগের পর শুক্রবার বেলা ১১টায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ করেন। তাঁদের অভিযোগ, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শমসুল হক নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন না। সভাপতি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় কীভাবে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
এর আগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন সিরাজীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে আয়োজকেরা জানান, নিয়োগ বোর্ডের খরচ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ১০ লাখ টাকা এবং অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৮ লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন সিরাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থী ও এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.