সাইফুল ইসলাম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িচর দাদপুর এলাকায় বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে প্রায় শতবর্ষী এক বৃদ্ধের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা নান্নু মাদবরের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নান্নু মাদবর দাবি করেছেন, তিনি টাকা দিয়ে ওই জমি কিনেছেন।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, সামছুল হক মাদবরের বয়স প্রায় ১০০ বছর। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে।
দলিলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ৭৫১৭/২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি হস্তান্তর করা হয়। জমিটি জে.এল. নম্বর ৯১, এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৭, বি.আর.এস খতিয়ান নম্বর ৪৭০ এবং দাগ নম্বর ৪৭০-এর অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ রয়েছে। পরিবারের দাবি, মোট ৮ শতাংশ জমির মধ্যে ৪.৮০ শতাংশ নান্নু মাদবরের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সামছুল হক মাদবর বলেন, তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে নান্নু মাদবর নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। পরে জানতে পারেন, তার জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে নান্নু নিয়ে গেছে। পরে শুনি, আমার জমি লিখে নিয়ে গেছে। আমি আমার জমি ফেরত চাই এবং আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার চাই।”
সামছুল হকের ছেলে আব্দুল বারেক মাদবর বলেন, তিনি ঢাকায় কাজ করেন এবং নিয়মিত বাবার খরচ বহন করেন। প্রায় ২০ দিন পরপর বাড়িতে এসে বাজার-সদাই করে দেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে এসে দেখি আমাদের সীমানার মধ্যে নতুন সীমানা দেওয়া হয়েছে। পরে চাচাতো ভাইদের জানালে শুনতে পাই, নান্নু মাদবর আমার বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নিয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল তুলে দেখি, আমার বাবার ৮ শতাংশ জমির মধ্যে ৪.৮০ শতাংশ নান্নু মাদবরের নামে দলিল করা হয়েছে।”
আব্দুল বারেক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তার দাবি, জমি নেওয়ার সময় দলিলে যেসব সাক্ষীর নাম রয়েছে, তাদের কাউকেই তারা চেনেন না এবং তারা ওই এলাকার বাসিন্দাও নন।
তিনি বলেন, “বয়স্ক ভাতার কথা বলে আমার বাবার জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। এখন আইনের আশ্রয় নিয়েছি। দেখি আইন সত্যের পক্ষে থাকে নাকি টাকার পক্ষে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মাদবর বলেন, আব্দুল বারেক তার কাছে গিয়ে জমির সীমানা নিয়ে বিষয়টি জানান। পরে তিনি নান্নু মাদবরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।
আব্দুর রাজ্জাকের ভাষ্য, নান্নু তাকে জানিয়েছেন, তিনি সামছুল হক মাদবরের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। তখন তিনি নান্নুকে বলেন, সামছুল হক মাদবরের সাত মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের কেউ বিষয়টি জানেন না—এমন অবস্থায় কীভাবে জমি বিক্রি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হয়েছে। “আমি চাই বারেক যেন সঠিক বিচার পায়। সে দিন আনে দিন খায়, তার আর্থিক সামর্থ্যও কম,” বলেন আব্দুর রাজ্জাক।
অভিযোগের বিষয়ে নান্নু মাদবর বলেন, “আমি টাকা দিয়ে জমি কিনছি। এত কিছু তো জানি না।”
অর্থাৎ, বয়স্ক ভাতার কথা বলে জমি নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং জমিটি টাকা দিয়ে কেনার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ আলম বলেন, “এরকম বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একজন শতবর্ষী বৃদ্ধের কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তিনি কী বুঝে দলিল করেছেন, কী মূল্যে জমি বিক্রি করেছেন, দলিলে উল্লেখিত সাক্ষীরা কারা এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.