নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
শিক্ষকদের দলাদলি ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, “দলাদলি বন্ধ করুন, নতুবা শিক্ষকতা ছেড়ে দিন। গত ১৭ বছরের ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন সামনে তাকানোর সময়। সরকারের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করুন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করুন।”
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকা জেলা পর্যায়ে ‘আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার ২৫টি কলেজের ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী গান, নৃত্য, কবিতা, আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ভিসি বলেন, শিক্ষকতা শুধু জীবিকার পেশা নয়, এটি সম্মান ও দায়িত্বের জায়গা। শিক্ষকতার মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে শিক্ষকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভাজন বা দলাদলিতে জড়ানো উচিত নয়।
তিনি বলেন, “শিক্ষকতা পেশার সম্মানটা যদি আমরা নিজেরাই ধরে রাখতে না পারি, তাহলে শিক্ষকতার নামে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা এই পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিক্ষকতার মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে বিকল্প পেশা বা আয়ের পথ বেছে নেওয়াই ভালো।”
শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’, ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া সরকার বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একা এসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন যাত্রায় সবাইকে অংশ নিতে হবে। লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাও এর অংশ।
শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পিএইচডির জন্য আগে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফুল-টাইম ও পার্ট-টাইম এমফিল এবং গবেষণা সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে এসে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ভিসি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তেজগাঁও কলেজের মিডিয়া অ্যান্ড থিয়েটার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নওরীন সাজ্জাদ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.