যশোর প্রতিনিধি
একটি মাত্র রাস্তা। সেটিই ২৫ গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্ষায় রাস্তাটি পরিণত হয়েছে কাদা-পানির মরণফাঁদে। হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান কাদা পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বৃহত্তর এড়লের বিল এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুড়ামনকাটি, কাশিমপুর ও হৈবতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকদের আবাদি জমি রয়েছে এই বিলে। এসব মানুষের চলাচলের জন্য দোগাছিয়া গ্রামের মূল সড়ক থেকে আজিজুল ইসলামের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা রয়েছে। এটিই তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এড়লের বিলে কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকদের প্রায় ১০ হাজার বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে দেড় শতাধিক পরিবারের বসবাস। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে পুরো তিন কিলোমিটার রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকশ গজ অংশে হেরিংবোন করা হলেও সেটিও পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা জমিতে সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে যেতে পারছেন না। একইভাবে উৎপাদিত ফসল বাড়িতে আনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকের পাট ও পাটকাঠি এখনো মাঠে পড়ে আছে।
দোগাছিয়া গ্রামের গোলাম নবী বলেন, “রাস্তাটি একসময় চলাচলের উপযোগী ছিল। এবারের বৃষ্টিতে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়িতে যেতে হয় হাঁটুসমান কাদার মধ্যে দিয়ে। আমাদের সন্তানদেরও একই কাদা পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়।”
একই গ্রামের মনির উদ্দিন মনো বলেন, “কষ্ট করে বাড়িতে ফিরতে পারলেও কাদার কারণে মাঠে সার নেওয়া যায় না। অনেক কৃষকের পাট ও পাটকাঠি মাঠেই পড়ে আছে।”
পল্লী চিকিৎসক বাপ্পি বলেন, “আমার বাড়ির সামনের রাস্তায় কোমরসমান কাদায় তলিয়ে যেতে হয়। কৃষকরাও সার-কীটনাশক নিয়ে মাঠে যেতে পারছেন না।”
আহসাননগর গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, “সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার কষ্ট দেখলে মনে হয়, কাদা পেরিয়ে তাদের আর স্কুলে পাঠাব না। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।”
ভ্যানচালক সানাউল্লাহ বলেন, “এত কাদা যে ভ্যান নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে দূরে গাড়ি রেখে আসতে হয়। এতে সবসময় চুরির ভয় থাকে। এমন অবস্থায় আত্মীয়স্বজনও আমাদের বাড়িতে আসতে চান না।”
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি পাকাকরণের পাশাপাশি পাশাপোল ইউনিয়নের মালিগাতি হয়ে কায়েমকোলা সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে চুড়ামনকাটি, কাশিমপুর, হৈবতপুরসহ আশপাশের ৪-৫টি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন খরচও কমবে।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েক দফা রাস্তা মেরামত ও কয়েকশ গজ হেরিংবোন করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তাটি আবার নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকাকরণ হলে ২৫ গ্রামের হাজারো কৃষকের দুর্ভোগ কমবে।”
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, “রাস্তাটি পাকাকরণ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে জানানো হয়েছে। তিনি রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, কৃষি ও জনসাধারণের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.