যশোর প্রতিনিধি
নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ। প্রকৃতিতে শরতের আবহ জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। যশোরজুড়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পূজার প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি, প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। এরই মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরের ১০১ প্রতিমার আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে এবারই প্রথম বৃহৎ পরিসরে ১০১টি প্রতিমা নিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীদের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যশোরের আট উপজেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ২৮টি।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন দোলা বা নৌকায় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। খড়-কুটা, ছন, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
যশোর শহরের বেজপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের ভাস্কর শংকর মন্ডল বলেন, এবার তিনি ৩৭টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে রাত-দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির পর এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে।
শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, মণ্ডপ এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। ইতোমধ্যে পুরোহিত ও ঢাকিদের বায়না করা হয়েছে। বিভিন্ন মণ্ডপে গেট ও মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছে পুরোদমে।
বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ বলেন, প্রতিবছর এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ১০১টি প্রতিমার আয়োজন বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। এ আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন তারা।
গৃহবধূ শিপ্রা বর্মণ বলেন, বিয়ের পর থেকে প্রতিবছর শ্বশুরবাড়িতে দুর্গাপূজা দেখলেও এবারই প্রথম এমন বড় আয়োজন দেখছেন। এতে তারা খুবই আনন্দিত। প্রায় দুই মাসের পরিশ্রমে অধিকাংশ প্রতিমার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
চাঁচড়া সর্বজনীন মন্দিরের সভাপতি তাপস বিশ্বাস বলেন, এবারও আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার দিনগুলো কাটবে। চাঁচড়া বামনপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে বিশেষ আয়োজনে এবার ১০১টি প্রতিমা নিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পূজা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন, জামাই ও দূর-দূরান্তের পরিচিতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে প্রতিমার রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে। পাশাপাশি মণ্ডপের অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন বলেন, মণ্ডপগুলোতে ডিজের পরিবর্তে ভক্তিগীতি বাজানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্দিরকেন্দ্রিক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বজনীন উৎসব হিসেবে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আয়োজক কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে বিশেষ তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা সীমিত রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে। আয়োজকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার প্রত্যাশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.