আনিস সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে নদীর লবণ পানি ওঠানামা করানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পাইপের মাধ্যমে চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি প্রবেশ করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা আবার নদীতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে বেড়িবাঁধ দুর্বল হচ্ছে, অন্যদিকে আশপাশের কৃষিজমি ও মিষ্টি পানির মাছের ঘেরে লবণ পানি ঢোকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উপজেলার ১১ নম্বর পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা ও খুটিকাটা এলাকায় এ ধরনের ‘নাইন্টি পাইপ’ বেশি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে এসব পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও অল্প দূরত্বের মধ্যেই একাধিক পাইপ দেখা যায় বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব পাইপ দিয়ে পানি ওঠানামা করায় পাইপের আশপাশের মাটি ও বাঁধের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধের কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করলে তা শুধু চিংড়ি ঘেরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও মানুষের চলাচলের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আমরা চাই ঘেরও থাকুক, কৃষিও থাকুক। কিন্তু একজনের লবণ পানির ঘেরের কারণে যেন অন্য মানুষের ধান ও মিষ্টি পানির মাছের ক্ষতি না হয়। সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো হয়ে থাকলে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “চাউলখোলা ও খুটিকাটায় কোথায় কতগুলো নাইন্টি পাইপ আছে, প্রশাসন সরেজমিনে এসে হিসাব করুক। কোনটির অনুমোদন আছে আর কোনটির নেই, সেটিও প্রকাশ করা হোক।”
এলাকাবাসীর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে চাউলখোলা, খুটিকাটাসহ পুরো পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হোক। অনুমোদনহীন পাইপ পাওয়া গেলে সেগুলো অপসারণের পাশাপাশি কেটে ফেলা বাঁধ যথাযথভাবে মেরামত এবং ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বাঁধ কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ব্যক্তিস্বার্থে বেড়িবাঁধে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাইপ স্থাপন করা হলে বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি, জনপদ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ বা অনুমোদনহীন নাইন্টি পাইপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.