নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশে শেখার ধরন, জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর, ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘জেনারেটিভ এআই: মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নতুন বাস্তবতা এবং শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। কী-নোট স্পিকার হিসেবে তথ্যবহুল উপস্থাপনা করেন ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ডেটা অ্যানালাইসিস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুদ্দিন খালিদ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রটির সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রহমান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষায় উদ্ভূত নতুন বাস্তবতা, শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পরে কী-নোট স্পিকার মো. সাইফুদ্দিন খালিদ তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব এবং প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার সামনে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি জেনারেটিভ এআইকে শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে না দেখে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবর্তিত বাস্তবতার অংশ হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন।
উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, একাডেমিক সততা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই এবং ভবিষ্যতের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এআইসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প হয়ে আসেনি, বরং মানুষের চিন্তাশক্তিকে আরও বিস্তৃত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এআইকে শিক্ষার জগৎ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পরিবর্তে আমাদের শিখতে হবে—কীভাবে এটিকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার সহায়ক শক্তিতে পরিণত করা যায়।”
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ পরিবর্তনকে দায়িত্বশীলভাবে গ্রহণ করে ভবিষ্যৎমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে বলেও জানান উপাচার্য।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.