রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
বর্ষা শেষ হয়েছে দেড় মাস আগে। তবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় শরতের শেষেও যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে আছে। প্রায় তিন মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন এসব গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। পানিতে ডুবে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও।
দীর্ঘ চার দশকের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ পালন করবে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
বুধবার দুপুরে যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) চালুর দাবি জানান।
জানা গেছে, যশোরের মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। অভয়নগরের ভবানীপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। তবে পলি পড়ে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে অব্যাহত জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও পানি জমে রয়েছে। অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডহর মশিয়াহাটী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পানি জমে আছে। একই অবস্থা মনিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়নের বাজে কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের সামনে কচুরিপানা জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত জুলাই মাসের অব্যাহত বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলের মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার অন্তত ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। পানির নিচে রয়েছে ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়।
গাজী আবদুল হামিদ বলেন, “সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হওয়ায় ওই অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে। নদী খননের পর পলি জমে দ্রুত তা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাবনা অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমার আগেই একটি বিলে টিআরএম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও খনন করা প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর টিআরএম বা জোয়ারাধার চালু করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল পুনঃখনন ও প্রশস্ত করা এবং জমি অধিগ্রহণের বাধা দূর করা। এ ছাড়া ভবদহ অঞ্চলের নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর টিআরএমবিরোধীদের চক্রান্তে পানিবন্দী মানুষের আন্দোলনে পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এবার ভবদহ বিলে পানি প্রায় তিন ফুট বেড়েছিল। ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেটের সব কপাট খোলা রয়েছে এবং কপাট দিয়ে পানি বের হচ্ছে। খুব দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.