নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদে মাছ ধরতে ও গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তুরাগ নদের রেলওয়ে ব্রিজের নিচ ও আশপাশের এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুই শিশু হলো—টঙ্গীর জামাইবাজার এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে আবু ইউনুস (১০) এবং একই এলাকার শাহ আলমের ছেলে নিরব মিয়া (৯)। তারা স্থানীয় শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবু ইউনুস, নিরবসহ কয়েকজন জামাইবাজার রেলওয়ে ব্রিজের নিচে তুরাগ নদে মাছ ধরতে ও গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে নিরব পানিতে তলিয়ে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে ইউনুসও নদে ঝাঁপ দেয়। পরে তীব্র স্রোতে দুজনই ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর অন্ধকার, তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে রাত সাড়ে ৭টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। দুপুরে নদে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আবু ইউনুসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিরবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছিল। রাতে অভিযান স্থগিতের পর সকালে পুনরায় অভিযান চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের লিডার রাসেল মামুন বলেন, তুরাগ নদে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুই শিশুর মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.