রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপালে সোনাতুনিয়া আমেনা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, কর্মচারী নিয়োগে অর্থ গ্রহণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বিরোধ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. অলিয়ার রহমান বাদী হয়ে আদালতে পিটিশন মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালত বাগেরহাট পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত শেষে সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে স্বপদে পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবিতে গত ১৮ আগস্ট বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সাইদুর রহমান। আবেদনে তিনি দাবি করেন, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর তাকে স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছে। তবে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে পুনর্বহাল করা হচ্ছে না এবং ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে তার বেতন-ভাতা স্থগিত রয়েছে। সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে চূড়ান্ত বহিষ্কার করেছেন বলেও আবেদনে দাবি করেন তিনি।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে সহকারী কমিশনার আফরিন সিদ্দিকের স্বাক্ষরে শুনানির জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা শুনানিতে উপস্থিত হন।
তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শেখ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পাঠদান বন্ধ রেখে শুনানিতে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালনকালে তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং বিদ্যালয়ের তহবিলের আরও প্রায় দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অর্থ আত্মসাৎ ও কর্মচারী নিয়োগে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সোনাতুনিয়া আমেনা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা বলেন, অর্থ আত্মসাৎ, অশালীন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাইদুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, স্বপদে ফেরার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ থাকার অভিযোগের বিষয়ে উম্মে হাবিবা বলেন, শুনানিতে অংশ নেওয়ার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিটিং করে রেজুলেশন করেছিল। ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়নি বা এতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং পুনর্বহালের দাবিকে ঘিরে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.