রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মাত্র এক মাসেই পাল্টে গেছে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের চিরচেনা যানজটের চিত্র। বাইপাস সড়ক না থাকা এবং রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কের পৌরশহর অংশের প্রায় ৭০০ মিটার সরু সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ছিল নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ।
গত এক যুগ ধরে যানজট নিরসনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রায় প্রতিটি সভায় পৌরশহরকে যানজটমুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরং যানজট নিরসনে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
তবে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সদিচ্ছা এবং সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে বর্তমানে পৌরশহর অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়েছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন পৌরবাসী।
জানা গেছে, দফায় দফায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অভিযান এবং সকাল থেকে পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কারণে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশের বৃহত্তম উপজেলা মনিরামপুরের ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বসবাস। ২০১৯ সালে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক দুই লেনে উন্নীত করা হলেও পৌরশহরের প্রায় ৭০০ মিটার অংশ প্রশস্ত করা হয়নি। অন্যদিকে, পৌরশহরে বাইপাস সড়ক না থাকায় মাসখানেক আগেও স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষকে সকাল থেকেই যানজটে পড়তে হতো। বিশেষ করে সপ্তাহের দুই হাটের দিন পশুর হাটকে কেন্দ্র করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকত।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে পৌরশহরের রাজগঞ্জ মোড়ে যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ শোহেব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক বাসচালককে জরিমানা করেন। এর প্রতিবাদে মুহূর্তের মধ্যে মোটরশ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। যানজট নিরসনে মোটরশ্রমিক নেতারাও প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন এবং নিজেরাই সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখছেন।
কলেজ শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুর আখতার বলেন, ‘যানজট নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ইউএনও মো. সম্রাট হোসেনসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছায় এটি সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি আনসার সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
আনসার-ভিডিপির গ্রুপ লিডার মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘অনেক সময় যানবাহনের চালকদের গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি হাসিমুখে মেনে নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করে চলেছি।’
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে যানজট নিরসনের কাজটি সহজ হয়েছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.