যশোর প্রতিনিধি
যশোরে তালাকের বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে চার লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাইফুজ্জামান সজিব ও তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ইছালী গ্রামের বাসিন্দা সাইফুজ্জামান সজিব। তিনি ওই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে এবং রেলওয়েতে চাকরির সুবাদে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থান করেন।
লিখিত বক্তব্যে সাইফুজ্জামান বলেন, ঈশ্বরদীতে বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ অবস্থায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাশের মনোহরপুর গ্রামের আইনজীবী জুয়েল মুন্সী তাদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। ঈশ্বরদীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে জুয়েল কাবিননামায় উল্লেখিত চার লাখ টাকা এবং খোরপোষ বাবদ আরও ৩০ হাজার টাকা দিলে সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন।
সাইফুজ্জামানের দাবি, ওই কথায় বিশ্বাস করে ধানি জমি বন্ধক রেখে তিনি জুয়েলকে মোট চার লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। পরে জুয়েল তাকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই একটি তালাকনামা দেন। সেটি স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানোর পর তালাকনামাটি জাল দাবি করে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি তার কর্মস্থল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিএনপি নেতার শরণাপন্ন হন। পরে তারা জুয়েল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বাসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে তালাকনামাটি সঠিক বলে দাবি করেন। কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে আসেন।
সাইফুজ্জামানের অভিযোগ, পরবর্তীতে জুয়েল তার বাবাসহ এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যশোর আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেন এবং সংবাদ সম্মেলনে তাদের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তার দাবি, তার বাবা ইতোমধ্যে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন এবং কোতোয়ালি থানায়ও অভিযোগ দিয়েছেন। চাকরি রক্ষা ও মামলা থেকে রেহাই পেতে শেষ পর্যন্ত তার বাবা অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে আবার তার স্ত্রীকে চার লাখ টাকা দেন। এ-সংক্রান্ত দুটি তালাকনামা ও অন্যান্য প্রমাণাদি তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে এলাকায় আরও কয়েকজনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন সাইফুজ্জামান। তিনি রাজাপুরের লিটন, ইছালী কারিগরপাড়ার গফুর, জয়নগরের হানিফ ও পাঁচবাড়িয়ার আব্দুর রহিমের নাম উল্লেখ করেন।
সাইফুজ্জামান বলেন, “আমি কারও সম্মানহানি করতে চাই না। আমার কাছে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চাই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগে একই বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন আইনজীবী জুয়েল মুন্সী। সেখানে তিনি দাবি করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান এবং ইউনিয়নে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাণ্বিত হয়ে কয়েকজন বিএনপি নেতা তালাক ও টাকা-পয়সার বিষয় সামনে এনে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সাইফুজ্জামানের নিকটাত্মীয় সোনিয়া আক্তার কেয়া, জাবির হোসেন, সাবিনা ইয়াসমিন, লাইলী খাতুন, রোকসানা খাতুন ও গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.