আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী লিয়া আক্তার পুতুল আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
লিখিত অভিযোগে লিয়া আক্তার পুতুল দাবি করেন, বাগেরহাটের বড়বাড়িয়া এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে তিনি। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে একই উপজেলার শিবপুর এলাকার ইলিয়াস খন্দকারের ছেলে জহিরুল খন্দকার তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতেন। পরে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়।
লিয়ার পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের এক ব্যবসায়ী যুবকের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করছিলেন। তবে সাবেক প্রেমিক জহিরুল তাকে স্বামীকে তালাক দিয়ে তার কাছে ফিরে আসার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
লিয়ার অভিযোগ, জহিরুল তাদের একসঙ্গে ঘোরাঘুরির ছবি তার স্বামীকে দেওয়ার এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেন। এনএসআইয়ে চাকরির পরিচয় ও প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে একপর্যায়ে তিনি বাধ্য হয়ে বিয়ের প্রায় চার মাস পর স্বামীকে তালাক দেন এবং জহিরুলের সঙ্গে চলে যান।
লিয়া আরও অভিযোগ করেন, জহিরুল বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া করে তাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর জহিরুল একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে সেটিকে বিয়ের কাবিননামা বলে জানান। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। কিছুদিন পর থেকেই জহিরুল তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন এবং বাসার বাইরে যাওয়ার সময় তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। এমনকি তার মোবাইল ফোনও নিজের কাছে রেখে দিতেন বলে অভিযোগ করেন লিয়া।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে জহিরুল তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। চলতি বছরের জুন মাসে ঢাকার ভাড়া বাসায় তাকে রেখে জহিরুল চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর জহিরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
লিয়া জানান, সম্প্রতি তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসেন। জহিরুলের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জহিরুলকে ছেড়ে দিতে বলেন এবং তার পরিবার জানায়, জহিরুলকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লিয়ার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের চেষ্টা করলে গত ২ অক্টোবর জহিরুল তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বললে জহিরুল তাকে বিষ খেয়ে মারা যেতে বলেন। এরপর ওইদিনই তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
লিয়ার মা চায়না বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে জহিরুল জোরপূর্বক আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেছে। পরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। এ ঘটনায় আমরা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।”
এদিকে বরিশাল নগরের কালুশাহ সড়কের কবিরাজ বাড়ির মালিক মুনসুর আহমেদ দাবি করেন, জহিরুল ও লিয়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় সাত মাস ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহিরুল খন্দকার। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। লিয়ার সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে আমার বিয়ের কথা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, লিয়ার আগে বিয়ে হয়েছে এবং তার স্বামী রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তাকে বিয়ে করব না বলে জানিয়ে দিই।”
লিয়া তার বিভাগীয় অফিসেও অভিযোগ করেছেন জানিয়ে জহিরুল বলেন, সেখানে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। বরিশালে ভাড়াটিয়া বাসায় থাকার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, “মুনসুর নামে কোনো ব্যক্তির বাসায় আমি কখনো ভাড়া থাকিনি। আমার বিরুদ্ধে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
জহিরুল আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানি করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.