এম এ ফয়সল, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন মালামাল বিক্রির ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি না করে এসব মালামাল গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম মেনেই একটি কমিটির মাধ্যমে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো আলমারিসহ বেশ কিছু মালামাল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে ছিল। এসব মালামাল হাসপাতালের স্টোরকিপার অসিত কুমার বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টোরকিপার অসিত কুমার মালামাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিক্রি করা হয়েছে। তবে কীভাবে বা কী প্রক্রিয়ায় হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন। তাঁর কাছে গেলে ভালোভাবে জানতে পারবেন।’
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মালামাল বিক্রির জন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রচার দেওয়া না হলেও হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য সমাজসেবা, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে মালামাল বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে বিক্রি হওয়া মালামালের সংখ্যা, ধরন ও বিক্রয়মূল্য জানতে চাইলে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন বলেন, অফিসের ব্যস্ততার কারণে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও একই ধরনের বক্তব্য দেন।
ফলে মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া, কমিটির কার্যক্রম এবং বিক্রয়মূল্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কতটি মালামাল বিক্রি হয়েছে, কী কী মালামাল বিক্রি হয়েছে এবং সেগুলো কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়েও রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও গজ, ব্যান্ডেজ ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এসব কিনতে হয়।
এ ছাড়া হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অফিস চলাকালে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগটি শুনলাম। প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তালা উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.