ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রতিষ্ঠার ১৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন পায়নি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জরাজীর্ণ ছাদ, খসে পড়া পলেস্তারা আর বেরিয়ে থাকা মরিচা ধরা রডের নিচে চরম ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, আবার কক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের বসতে হচ্ছে অন্ধকার স্টোররুমে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের নাগেরহাট এলাকায় অবস্থিত। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে বড় বড় ফাটল, বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে পলেস্তারা। ছাদ থেকে বালু-খোয়া খসে পড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি ঠেকাতে পলিথিন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। তবুও পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়ে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক। গরমের সময়ও জরাজীর্ণ কক্ষগুলোতে পাঠদান করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও বসার ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের ব্যবহৃত অন্ধকার স্টোররুমেও গাদাগাদি করে পাঠদান করতে হচ্ছে। ভাঙা ব্ল্যাকবোর্ড, দরজা-জানালার বেহাল দশা এবং বৃষ্টিতে জলমগ্ন খেলার মাঠ বিদ্যালয়টির দুরবস্থাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেজুতি বলে, ‘অন্যদের স্কুল কত সুন্দর! আর আমাদের মাথার ওপর থেকে বালু-খোয়া খসে পড়ে। বৃষ্টি এলেই বই-খাতা ভিজে যায়। আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়। আমাদের অন্তত একটি নিরাপদ ভবন চাই।’
অভিভাবক রানা হাসানসহ স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে একটি বিজ্ঞান ভবন এবং ১৯৯৭ সালে আরেকটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবন দুটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টিতে নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক একাডেমিক ভবন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদীপ মণ্ডল ও সুমন রানা বলেন, কক্ষ সংকটের কারণে স্টোররুমেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। ভাঙা বোর্ডে পাঠদান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। সব সময় ভয় হয়, কখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা জরাজীর্ণ ছাদ ধসে পড়ে। একাধিকবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকায় নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি রয়েছে। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই বিদ্যালয়টিতে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
দীর্ঘ ১৪৫ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.