
ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ৬৩ শতাংশের বেশি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমির নামজারি করিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক পক্ষ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অপর পক্ষের দাবি, তাঁরা ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সখিপুর থানার মাধু সরকার কান্দি এলাকার সখিপুর মৌজায় গোল সাহেরার নামে বিএস ৩৩৪২ নম্বর খতিয়ানের ৩০৮৭, ৩০৯২, ৩৩১৮, ৩০৯১, ৪৭৯২ ও ৪৭৯৩ নম্বর দাগে মোট ৬৩ শতাংশ ৮৬ অযুতাংশ জমি রয়েছে। এই জমির মালিকানা নিয়ে গোল সাহেরার ওয়ারিশদের সঙ্গে মৃত আবদুর রহমান গাজীর ওয়ারিশ মোহাম্মদ, ফারুক, নবীন হোসেন, কবির হোসেন, তাছলিমা, রাশিদা বেগম ও জাহানারা বেগমের বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
গোল সাহেরার ছেলে মো. আলী মিঝির দাবি, তাঁর মা ২০০১ সালে মারা যাওয়ার পর তাঁরা ভাই-বোনেরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু আবদুর রহমান গাজীর ওয়ারিশ পরিচয়ে কয়েকজন জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমির নামজারি করিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। এতে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলী মিঝি জানান, নামজারি বাতিলের আবেদন করার পর সখিপুর ‘ক’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী সরেজমিন তদন্ত করেন। পরে সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফরহাদ আলম বলেন, ওয়ারিশ সনদ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া হুমকি-ধমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সখিপুর ‘ক’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী বলেন, অভিযোগকারীরা রেকর্ডীয় মালিক এবং জমিটি তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। গোল সাহেরার নামে দেওয়া দুটি ওয়ারিশ সনদ পর্যালোচনা করে অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, সনদ দুটি জাল। তবে জমির মালিকানা ও ওয়ারিশ সনদের বৈধতা-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও জানান, IX-P-J-2084/24-25 নম্বর নামজারীকৃত জমাভাগ মোকদ্দমা বাতিল করা যেতে পারে বলে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক গাজী বলেন, “তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা। গোল সাহেরা আমার বড় মা। আমরা এ সম্পত্তির ওয়ারিশ। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির অধিকার পেলে নেব, না পেলে নেব না।”
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু সরকার জীবন বলেন, “আমি এলাকায় তদন্ত করে ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করেছি। যদি সনদ জাল হয়, আইনে প্রমাণিত হবে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গোল সাহেরার ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.