জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুলের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, একাডেমিক ক্ষতির হুমকি ও গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেজওয়ান হাসান। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে রেজওয়ান হাসান উল্লেখ করেন, গত ১১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিভাগের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে উপস্থিত যীনাত মিয়া আজিজুল তাঁকে ডেকে নেন। ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে তিনি উচ্চস্বরে ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন রেজওয়ান। এ সময় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কীভাবে পেলেন, তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কাছে বিষয়টি জানানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে যীনাত মিয়া আজিজুল তাঁকে বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত দেন, তাঁর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান—এমন অভিযোগ করেছেন রেজওয়ান। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকলে পরীক্ষায় কম নম্বর পেলেও তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন বলেও বলা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
রেজওয়ানের অভিযোগ, তাঁকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। তবে শুরুতে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরে ফেসবুকের পোস্ট ও পোস্টার দেখে তিনি জানতে পারেন, সেটি ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল।
অভিযোগপত্রে রেজওয়ান হাসান আরও বলেন, এসব ঘটনার কারণে তিনি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ধরনের আচরণ এবং একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপে রাখার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা যীনাত মিয়া আজিজুল। তিনি বলেন, “আমি কখনো কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে কিছু করতে বলিনি। এই ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, আমি তার মুখোমুখি হব। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রমাণ ছাড়া কেউ অভিযোগ করতে পারে না।”
কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি প্লাস্টিক বর্জন ও মাদকবিরোধী সামাজিক কর্মসূচি করেছি। এটা কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না। ফেসবুক গ্রুপে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমার ডিপার্টমেন্টের জুনিয়রদেরও বলেছিলাম। কেউ জোর করে নিয়ে যায়নি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান বলেন, “অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.