হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না বালুর ব্যবসা। এতে নদীতীর, কৃষিজমি, বসতভিটা ও জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাহেবের চর হাজীবাড়ি এলাকার পক্ষে এ আবেদন করেন হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাহেবের চর হাজীবাড়ি এলাকার বিপরীত পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড় থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। বালু উত্তোলনের সময় নদীর পাড় কেটে নেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাটসহ সাধারণ মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হয়ে কৃষকেরা ফসলি জমি, জীবিকার প্রধান অবলম্বন ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত ও পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের আইনগত অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন, বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ রাখা এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার, নৌযান ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নদীর পাড় কেটে কৃষিজমি, ফসলি জমি, বসতভিটা ও জনসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ভবিষ্যতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সাহেবের চর এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় প্রশাসন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তাঁদের দাবি, এলাকার অনেক কৃষকের উর্বর ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং এর বিপরীতে নামমাত্র মূল্য দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বাহার উদ্দিন নামে একজনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম এবং ময়মনসিংহের পাগলা থানার অধীন হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পেয়ে অনেকে আগেই পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, অতি শিগগির টেন্ডারের আওতায় এনে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারার ডাক দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.