ফরিদপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। দল ক্ষমতায় আসার পরও ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, দলে নতুন করে অনেকের আনাগোনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, আগে যারা দলের কর্মসূচি সফল করতে ঝুঁকি নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এখন উপেক্ষিত। বরং নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে তাঁদেরই বাড়িতে যেতে হচ্ছে। ফরিদপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ ও দলীয় পদ-পদবিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির ত্যাগী নেতা আরমান হোসেন গত ১০ অক্টোবর নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেন, ডিলার নিয়োগে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হলে তাঁদের অতীতের ত্যাগের বিষয়টিও সামনে আনা হোক। এর আগে ৮ অক্টোবর তিনি লেখেন, ‘প্রকৃত বিএনপি নিরবে কাঁদে, আপনি কি শুনতে পান?’
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বেপারীও ফেসবুকে একটি পোস্টে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বৈষম্যের ইঙ্গিত দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর লেখায় দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি উঠে আসে।
অন্যদিকে, সরকারি ইয়াসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভিপি রেজা গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে লেখেন, ৫ আগস্টের আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের কর্মসূচি সফল করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তখন কর্মসূচিতে ব্যানার ধরার লোকও পাওয়া যেত না, অথচ এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘মিছিলের শেষের ছেলেটাও দলীয় পরিচয় পাবে’—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ত্যাগী তৃণমূলের কাছে দলীয় পরিচয়ের প্রকৃত অর্থ কী?
তৃণমূল নেতাকর্মীদের এসব বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ফরিদপুরে বিএনপির সাংগঠনিক মূল্যায়ন, ত্যাগীদের যথাযথ মর্যাদা এবং দলীয় সুযোগ-সুবিধা বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াবেন দায়িত্বশীল নেতারা এবং অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.