বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে একটি বাঘ। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঘটির সন্ধানে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালিয়েও সোমবার দিনভর তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি বন বিভাগ। এদিকে বাঘের সম্ভাব্য বিচরণস্থলের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামে ধানখেত, মাছের ঘেরের পাড় ও বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি বন বিভাগ, ভিটিআরটি ও সুন্দরবন বিভাগের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যদের জানানো হয়। বন বিভাগের ধারণা, ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
সিপিজি টিম লিডার মো. খলিল জোমাদ্দার জানান, গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে ও আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখা যায়। খবর পেয়ে সোমবার ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা বাঘের চলাচলের চিহ্ন অনুসরণ করে ধানখেত পর্যন্ত পায়ের ছাপ দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দিনভর ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানো হলেও বাঘটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নদীর চরে বাঘটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি লোকালয়ের কোনো ঝোপঝাড় বা ধানখেতে লুকিয়ে থাকতে পারে।
সিপিজির সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন বলেন, ধানখেত ও সবজিখেতের আলের ওপর বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘের ভয়ে মানুষের চলাচলও কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলা এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পানিরঘাট ও সোনাতলা এলাকায় একটি বাঘের বিচরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। আট দিনের ব্যবধানে আবারও বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে সুন্দরবনে ফিরিয়ে নিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতে বাঘটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার কোনো পদচিহ্ন পাওয়া না গেলে মঙ্গলবারও ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানো হবে। পাশাপাশি বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং রাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হতে মাইকিং করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.