শেখ শাহিনুর ইসলাম শাহিন, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী জনপদ। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও রাস্তাঘাট। ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, কবরস্থান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ অবস্থায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার সোনাপুরা, চর আটজুড়ী, গিরিশনগর, গাড়ফা, উদয়পুর, আস্তাইল ও সিঙ্গাতী গ্রামকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের আওতায় আনতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে কৃষিজমি ও বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে।
মধুমতির ভাঙন এখন শুধু বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীগর্ভে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবা গ্রহণে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, বালুর বস্তা ফেলা কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। নদীর স্রোত, তীরের মাটির গঠন ও ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বলেন, “প্রতিদিন নদী ভাঙছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ঘরবাড়ি, জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে জানিয়ে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, “বিষয়টি আমি এবং আমাদের ডিসি স্যার অবগত আছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।”
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, মোল্লাহাটের গাড়ফা বাজার ও সোনাপুরা অংশে নদীভাঙন রোধে ১ হাজার ৪২০ মিটার (প্রায় দেড় কিলোমিটার) বাঁধ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে এ মুহূর্তে মধুমতি নদী খননের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.