শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীতে অলমেল গলদা চিংড়ি চাষে সফলতার মুখ দেখছেন চাষিরা। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অল্প সময়ে চিংড়ি বাজারজাত ও বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় আধুনিক এ চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা। কম সময়ে উৎপাদন ও একই মৌসুমে একাধিকবার চাষের সুযোগ থাকায় অলমেল গলদা চিংড়ি ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চিতলমারীতে তিন শতাধিক ঘেরে একক ও মিশ্র পদ্ধতিতে অলমেল গলদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া, শ্রীরামপুর, কালশিরাসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা এ পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করছেন।
ডুমুরিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক সুজিত মণ্ডল ব্যবসার পাশাপাশি দুই বছর আগে অলমেল গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন। তাঁর সফলতা দেখে এলাকার অন্য চাষিরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সুজিত মণ্ডল জানান, প্রচলিত গলদা চিংড়ি চাষের তুলনায় অলমেল পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ চাষে যেখানে স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ির অনুপাত প্রায় সমান থাকে, সেখানে অলমেল পদ্ধতিতে প্রায় ৯৭ শতাংশ পুরুষ চিংড়ি পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
চিংড়িচাষি কৌশিক বাড়ৈ বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া কঠিন। তবে চলতি বছর ফিসটেকের অলমেল গলদা চিংড়ি চাষ করে বেশ ভালো ফল পাচ্ছেন চাষিরা।
মৎস্যচাষি প্রবীর ভক্ত জানান, তাঁর ৪২ শতকের ঘেরে প্রায় ৯ হাজার ফিসটেকের অলমেল গলদা চিংড়ি ছাড়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১২০ কেজি এবং গত ২৪ অক্টোবর আরও প্রায় ১০০ কেজি চিংড়ি আহরণ করেছেন তিনি। আড়তে প্রতি কেজি চিংড়ি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
প্রবীর ভক্ত বলেন, চিংড়ির পরিচর্যা, খাবার এবং পানিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করায় অল্প সময়েই আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ঘেরে আরও প্রায় ৫০০ কেজি চিংড়ি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। রোগবালাইয়ের বড় কোনো সমস্যা না হলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের প্রত্যাশা করছেন এই চাষি।
স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অলমেল গলদা চিংড়ি চাষে পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি। তবে মাত্র চার মাসে চিংড়ি বাজারজাত করা যায় এবং একই ঘেরে এক মৌসুমে দুইবার চাষের সুযোগ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী অলমেল চিংড়ির রেণু পোনা পাওয়া গেলে এ খাতে আরও বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা তাঁদের।
চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর উপজেলায় অলমেল গলদা চিংড়ি চাষের প্রসার ঘটেছে। চাষিরাও এ পদ্ধতি সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন। রেণু পোনার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে আধুনিক চিংড়ি চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.