নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়াকে ফল বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তাঁর মতে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষার মূল্যায়ন ও জবাবদিহি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সাময়িক প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আরও যত্নবান ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে আগামী পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বাড়বে।
রোববার (১ নভেম্বর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে আমি ফল বিপর্যয় মনে করি না। এটাকে স্বাভাবিক ফলাফলই বলব। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা দরকার ছিল, হয়তো আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারিনি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিতে চাই না। আমাদের অক্ষমতাগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে। অনার্স পরীক্ষায়ও পাসের হার ৬০ শতাংশের কম। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণে ফলাফলে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়াতে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়কেই আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। তিনি বলেন, ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান একটি বছর বাঁচাবে। বিশেষ পরীক্ষা ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবেন। এসব প্রক্রিয়া শেষে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে বসে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করা যাবে না। বরং তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত সময়ের বাইরে, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতেও অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনা সম্মানীতে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। আগামী এক থেকে দুই মাস শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবে।
ভবিষ্যতে পাসের হার বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, এখন শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে, ভালো ফল করতে হলে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষকদেরও যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সাময়িকভাবে পাসের হার কমলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় পাসের হার বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.