পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা জলপাইয়ের হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। মৌসুমের শুরুতেই ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এ পাইকারি বাজার। প্রতিদিন এখানে ১৪০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত জলপাই কেনাবেচা হচ্ছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় নানা আকারের জলপাই। কোথাও চলছে ওজন ও বাছাই, কোথাও পরিষ্কার করে বস্তাবন্দী করার কাজ। এ কাজে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন নারীরাও। পঞ্চগড় ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে জলপাই নিয়ে আসছেন এ হাটে।
নিজের গাছের জলপাই বিক্রি করতে আসা টোকরাভাষা চিলাহাটি ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের পাটিকাপাড়া এলাকার কলেজশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি নিজের গাছের জলপাই এ হাটে বিক্রি করছেন। এবার ১৬০ কেজি জলপাই ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। গত বছর প্রাণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাড়ি থেকে ২০ টাকা কেজি দরে জলপাই কিনে নিয়েছিলেন। এবার ফলন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম হলেও তিনি সন্তুষ্ট।
পঞ্চগড় থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইসাহাক আলী বলেন, সাত-আট বছর ধরে তিনজন মিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে জলপাই কিনে এ হাটে বিক্রি করছেন। দিন শেষে জনপ্রতি এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।
স্থানীয় পাইকার মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টন জলপাই কেনাবেচা করেন। এর একটি অংশ প্রাণ কোম্পানিতে যায়। বাকিগুলো ঢাকা, বরিশাল, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, প্রতিদিন এ বাজার থেকে তিনি ৮ থেকে ১০ টন জলপাই কেনেন। তাঁর মতো চট্টগ্রামের আরও কয়েকজন পাইকার ১০ থেকে ১৫ টন করে জলপাই কেনেন। এসব জলপাই বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
জলপাইয়ের এ হাটকে কেন্দ্র করে মৌসুমে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক শ মানুষের। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক জলপাই কেনা, বাছাই, পরিষ্কার ও ট্রাকে বোঝাইয়ের কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শ্রমিক রয়েছেন। হাটে ৩০ সদস্যের একটি নারী শ্রমিক দলকে জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়ানোর কাজে দেখা যায়।
নারী শ্রমিক সাবিত্রী দাস বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করেন তাঁরা। সারাদিন জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়িয়ে মজুরি পান ৩০০ টাকা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলায় তিন হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হয়। স্থানীয় উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে জলপাই আসায় এ হাটের পরিধি বড় হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, দেবদারুতলা উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে জলপাই কেনাবেচা চলে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারেরা এ বাজারে আসেন। দেবীগঞ্জ তথা পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে এত বড় বাজার হলেও জলপাই সংরক্ষণের জন্য এখানে নেই কোনো হিমাগার। ফলে কেনাবেচার পর দ্রুত বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠাতে হয় জলপাই। হাটের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.