শফিকুল ইসলাম, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীতে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চারটি কলেজ ও চারটি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৫৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৭৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৭৬ জন। পাসের হার কমে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এবার উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র তিনজন। চারটি মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। কয়েকটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ১৯ দশমিক ৪, ৩৬ দশমিক ৮১ ও ১০ শতাংশে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানে যথাযথ তদারকির অভাব, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং মোবাইল ফোনে আসক্তি। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের কোচিং-নির্ভরতা ও গাইড বইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীরা মৌলিক পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। করোনা মহামারির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং পরবর্তী সময়ে পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতিও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উপজেলার একাধিক অভিভাবক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ফলাফল এত খারাপ হওয়ায় সন্তানদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও উদাসীনতা দূর করে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
শৈলদাহ-বাকপুর কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। এ ছাড়া এবার নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা হলে কড়াকড়ি, স্বচ্ছতার সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়ার টেবিলে বসে না, অনেকেই মোবাইল ফোনে আসক্ত। এ ছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব কারণে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ফলাফলের সামগ্রিক মূল্যায়ন ও বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.