কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বড় ছেলের ঘরে আশ্রয় পেয়েছেন ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লা। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশের পর বুধবার সকালে বাবাকে নিজের ঘরে তুলে নেন বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা।
বৃদ্ধ শামসুল হক উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে গেলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামসুল হকের দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে তিনজন বিবাহিত। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের দেখাশোনা নিয়ে সন্তানদের মধ্যে অনীহা দেখা দেয়। গত কয়েক দিন তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন দুই ছেলে ও চার মেয়েকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর বাবার ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেন। পরে বড় ছেলে আজিজুল হক বাবার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
এ বিষয়ে বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ। পাশাপাশি বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকায় বাবাকে নিজের কাছে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।
মেজ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, তাঁদের চার বোনকে জমি বিক্রির টাকা থেকে চার লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দুই ভাই নগদ টাকাসহ আট কাঠা করে জমি পেয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবেন, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, ‘ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার বাবাকে ঘরে নিয়েছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা আমার কাছেই থাকবেন।’
বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, ‘আমার বড় ছেলের ঘরে আশ্রয় হয়েছে। আমি এখনই খুশি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আমার বড় ছেলের কাছে থাকব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই বৃদ্ধের সন্তানদের তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বাবার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে বড় ছেলে আজিজুল হক সম্মত হন। সন্তানরা দায়িত্ব নিতে রাজি না হলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.