মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জুতাপেটা করেছেন সামিয়া আফরোজ নামে এক নারী। গত বুধবার দুপুরে পৌরশহরের সোনালী ব্যাংকের পাশে একটি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া তাদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ প্রতিবাদ করেন। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়ার আলী নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দুই বছর আগে মনিরামপুরের ব্রক্ষপুর গ্রামে ছয় শতক জমি কেনার পর সাংবাদিক পরিচয়ে জাকির তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি জমির দখল নিতে পারেননি বলে দাবি করেন জিয়ার। এ ছাড়া ঢাকুরিয়ার কৃষক হাফিজুর রহমান, মুয়াজ্জিন আনোয়ার হোসেন ও ভ্যানচালক সোবহান আলীসহ কয়েকজন জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানী অভিযোগ করেন, তার মানসিক ভারসাম্যহীন শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে আটকে রেখে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে জাকির ও তার সহযোগীরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না পেয়ে তার শ্যালিকাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অপসাংবাদিকতার প্রতিবাদে রিপোর্টার্স ক্লাব থেকে পদত্যাগ করেছেন সহসভাপতি এসএম তাজাম্মুল, প্রচার সম্পাদক আবু রায়হান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাজ্জাদুল ইসলাম ও প্রদীপ কুমার মণ্ডল। এসএম তাজাম্মুল বলেন, জাকিরদের অপতৎপরতা ও অপসাংবাদিকতার প্রতিবাদে তারা চারজন পদত্যাগ করেছেন।
এ ঘটনায় মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম মজনুর রহমানের বক্তব্য একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মনিরামপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আগামী শনিবার বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, জাকির হোসেন জামায়াতের কোনো পর্যায়ের পদ-পদবিতে নেই। তিনি সংগঠনের কেউ নন। তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার সংগঠন বহন করবে না।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.