জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই পাঁচজনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে এভাবে লোক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে উপাচার্যের কার্যালয়ে একজন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে একজন এবং রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভেতরে দুজন ও বাইরে একজন কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে দু-একজন নিয়োগপত্র পেলেও অধিকাংশই এখনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পাননি। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সিলেকশন কমিটি ছাড়াই তাঁদের কাজে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের গতি বজায় রাখা ও জরুরি প্রয়োজনে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য পাঁচ থেকে ছয়জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতাবলে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় সিলেকশন কমিটি বা পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং বিভিন্ন দপ্তরের জরুরি কাজের স্বার্থে এসব অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউজিসির নিয়মের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য তিনটি পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কাজের মূল্যায়ন ও বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন সবসময় স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, এভাবে হঠাৎ করে লোক নিয়োগ করলে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশের একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাবিপ্রবির এই অস্থায়ী নিয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.