কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
কার্তিকের শেষ সপ্তাহ চলছে, দুয়ারে অগ্রহায়ণ। মাঠে মাঠে পাকা আমন ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় গ্রামেগঞ্জে বইছে নবান্নের আগাম আনন্দ। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রংপুরের কাউনিয়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে ডালি, কুলা ও চাইলন (চালা) কেনার ধুম পড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও গৃহস্থরা ধান কাটা-মাড়াইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে ছুটছেন হাটে। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষাণীদের কাছে ডালি-কুলার চাহিদা বেশি। তকিপল হাটে কুলা কিনতে আসা গোপীডাঙা গ্রামের আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কুলা দিয়ে ধান ঝাড়তে হবে। তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছি। এখন না কিনলে কয়েক দিন পর দাম আরও বাড়তে পারে।’
খোপাতি এলাকার মকবুল হোসেন বলেন, ‘বাড়ির বউ-ঝিরা ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করবে। তাদের সুবিধার জন্য আগেই ডালি-কুলা কিনছি। আর কয়েক দিন পর ধান কাটার জন্য কাস্তেও লাগবে।’
চরসাব্দী গ্রামের কৃষক মোতালেব আলী জানান, গত বোরো মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলেও তাঁরা ২৩ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করেছেন। তবে এবার আমনের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে বাজারে মোটা ধানের মণ এক হাজার এবং চিকন ধানের মণ ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ দাম অব্যাহত থাকলে এবার ধানে লোকসান হবে না বলে আশা তাঁর।
অন্যদিকে খানসামা হাটের ডালি-কুলা ও চাইলন বিক্রেতা ফুল মিয়া বলেন, বাঁশের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বাঁশের তৈরি কৃষি সরঞ্জামের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবু মৌসুমে এসব পণ্যের চাহিদা বেশ ভালো। কারিগর সংকট ও বাঁশের বাড়তি দামের কারণে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের চাহিদাও ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.