মধুখালী (ফরিদপুর)প্রতিনিধি
সাংবাদিকের একটি ফেসবুক পোস্ট বদলে দিল ২৬ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তির জীবন। দীর্ঘ আড়াই দশক পর নিজের পরিবারকে ফিরে পেয়েছেন ময়মনসিংহের মো. আলী হোসেন। ফরিদপুরের মধুখালীতে স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন নুর আলম নামে।
জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পান্ডাপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়া ও মোসা. আবেদা খাতুনের ছেলে আলী হোসেন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রায় ২৬ বছর আগে পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। একপর্যায়ে তিনি ফরিদপুরের মধুখালীতে এসে পৌঁছান। নিজের নাম-পরিচয় কিংবা বাড়ির ঠিকানা বলতে না পারায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে নুর আলম নামে ডাকতে শুরু করেন।
মধুখালীতে বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে খাবারের বিনিময়ে কাজ করতেন তিনি। পরে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে রাস্তায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে থাকেন। স্থানীয় কিছু দয়াবান মানুষের সহযোগিতায় তাঁর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা চলছিল।
এ বছরের অক্টোবর মাসে দৈনিক মানবকণ্ঠের মধুখালী প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান হেলাল নিজের ফেসবুক পেজে নুর আলমের ছবি দিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁর পরিচয় জানতে যোগাযোগ শুরু হয়।
এর মধ্যে কয়েকজন নিজেদের স্বজন দাবি করে মধুখালীতে এলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ফিরে যান। অবশেষে শনিবার (৭ নভেম্বর) ময়মনসিংহ থেকে আসা একটি পরিবার নুর আলমকে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সদস্য মো. আলী হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে।
পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১ নম্বর অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আরমানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে মধুখালী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম মাসুদুজ্জামান ও মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায়ের পরামর্শক্রমে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে মধুখালী রেলগেট এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিক শাহজাহান হেলালসহ স্থানীয় সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলী হোসেনকে ফিরে পেতে আসা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাবেক পুলিশ সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম, বড় বোন হোসনেয়ারা বেগম, বড় দুলাভাই মো. আবু বক্কার সরদার, মামাতো ভাই ইমরান মীর, ভাতিজা মজনু মিয়া ও তাঁর সন্তান মো. মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.