মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় পল্লিচিকিৎসকসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর নিজ দোকানে আটকে ইনজেকশন পুশ করে রঞ্জনকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে নিয়ে নদীতে ফেলে দেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মনিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালী গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুল হান্নান গাজী। রবিবার বিকেলে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের হেলারের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহটি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মণ্ডলের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা দেবাশীষ মণ্ডল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে রঞ্জন মণ্ডল কাটাখালী বাজারে মিঠুন ধরের চেম্বারে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর মিঠুনকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি জানতে পারে, আব্দুল হান্নান গাজীর সহায়তায় মিঠুন ধর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি যশোরের একটি দল কলারোয়া থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসাইন জানান, রঞ্জন মণ্ডল মিঠুনের ফার্মেসিতে যাওয়ার পর একপর্যায়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে মিঠুন দোকান খুলে একটি বস্তা মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে নিয়ে যান। ওই বস্তায় রঞ্জনের মরদেহ ছিল। প্রথমে গ্রামের একটি সরু রাস্তার পাশে বস্তাটি রেখে পরে রাতে ইট বেঁধে মুক্তেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মিঠুন ধরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত সোনার চেইন ও আংটি, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং কাটাখালী বাজারে মিঠুনের দোকান থেকে ইনজেকশনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, রঞ্জন মণ্ডলের সহায়-সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.