বাগেরহাটের চিতলমারীতে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে আমরন অনশনে বসেছেন গার্মেন্টসকর্মী কবিতা সরকার ( ৪৫)। তিনি উপজেলার সাবোখালী গ্রামের ভরত সরকারের কন্যা।গত দুই দিন ধরে তিনি এ অনশনে রয়েছেন। কবিতা বিয়ে করেননি। এলাকায় তাকে চিরকুমারী বলে চেনে।
কবিতার অভিযোগ দেনাগ্রস্ত ভাই সুব্রত সরকারকে বিভিন্ন সময় ২০ লাখ টাকা ধার দিয়েছেন। এ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কবিতার বাবা ছেলের দেনা পরিশোধের জন্য মেয়ে কবিতাকে ১ বিঘা ৮ শতক জমি তার নামে লিখে দেওয়ায় আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় কবিতার বাবা ভরত সরকার গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ভাই সুব্রত সরকার তাকে জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পাওনা টাকার কথাও সে অস্বীকার করে। এ অবস্থায় কবিতা নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। গত দু’দিন ধরে সে ভাইয়ের কাছ থেকে এ টাকা আদায়ের জন্য আমরণ অনশন করছেন। গত ৭ নভেম্বর সোমবার চিতলমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশনে বসেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান করছেন।
কবিতা জানায়, সে গার্মেন্টে কাজ করে গত ২৬ বছর ধরে যে অর্থ জমিয়েছিলেন এর সবট্ াতার ভাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিনিময়ে জমি লিখে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভাই সে জমি বিক্রি করে দিয়েছে। পাওনা টাকা চাইলে উল্টো তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন তার কোন অবলম্বন না থাকায় নিরুপায় হয়ে সে অনাশনে বসেছেন।
এ বিষয়ে কবিতার ভাই সুব্রত সরকার জানান, তার বোন কবিতার সাথে কোন লেনদেন নেই। সে অনশনে বসে যেটা করে করুক এ বিষয়ে আমাদের কোন দায় নেই।
চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল জানান, কবিতা সরকার তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ভাই সুব্রত সরকারকে ডাকা হয়েছিল। সে দেনার টাকা পরিশোধের জন্য কবিতার নামে জায়গা লিখে দেওয়ায় কথা বলে কিন্তু ওই জমি তাকে না দিয়ে বিক্রি করে ফেলেছে। প্রতারক না হলে বোনের সাথে এমন বেইমানি করতে পারে না।

