নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে ভুল চিকিৎসায় মিতা বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিতা বেগম নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী। সোমবার (২৭মে) রাতে নিহত মিতা বেগম কে স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৪মে) বিকালে গৃহবধূ মিতা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে শহরের মডার্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার দে মিতার সিজার অপারেশন করেন।
রাতেই ওই চিকিৎসক রোগীর পরিবারকে বলেন, রোগীর ব্লাড প্রেসার কমে যাচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা অথবা যশোরে নিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের কথা মতো রোগীকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে সোমবার (২৭ মে) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মিতা বেগমের ভাশুর ইমরুল হাসান বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে ৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। যখন যশোর নেওয়া হয় তখনও তার শরীর রক্ত শূন্যতা ছিল। যশোর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভুল অপারেশনের জন্য মিতার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা রোগীর ভাশুর ইমরুল হাসান কে জানান । সিজার অপারেশনের সময় চিকিৎসক রোগীর মূত্র থলি কেটে ফেলেন। পরে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে একটি নলের সঙ্গে রক্তনালী সাদা স্কচটেপ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে বেঁধে দেয়। পরে ঠিক মতো রক্ত চলাচল করতে না পারায় রোগীর রক্ত শূন্যতা দেখা দেয় এবং ব্লাড প্রেসার কমে যায় এবং রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এবিষয় অভিযুক্ত নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার দে মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে বলেন, অপারেশন ভুল ছিল না। মূত্রথলি বা অন্য কোনো নালি কাটা পড়েনি। তার ব্লাড প্রেসার কম ছিল। এজন্য তাকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর কারণ কী এ প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম বলেন,এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.