ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক স্বামীকে মারধর ও তাঁর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) রাতে তজুমদ্দিন থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝর্ণা বেগম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, গত শনিবার (২৯ জুন) রাতে তজুমদ্দিন উপজেলার একটি ইউনিয়নের বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন, যুবদল কর্মী মো. আলাউদ্দিনসহ কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
পরদিন রোববার সকালে ভুক্তভোগীর প্রথম স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে স্বামীকে ঘর থেকে বের করে চা খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে গেলে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রথম স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। চিৎকার শুনে আশপাশের নারীরা এগিয়ে এলেও তাঁকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে কিছু না বলার শর্তে দম্পতিকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর থেকে ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান স্বজনরা।
পরে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান ভুক্তভোগীর স্বামী। সোমবার রাতে তাঁরা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারীকে মেডিকেল পরীক্ষার পর ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা শ্রমিক দল থেকে ফরিদ উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়। সোমবার রাতে সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.