মো.মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের সাঁতার পূর্বপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। সরকারি খাস পুকুরে সেতু না থাকায় পুকুরের ওপর নির্মিত বাঁশের এই সাঁকোই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রবীণরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁতার পূর্বপাড়ার মাগুড়া গাড়ি নামক স্থানে দুই বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাস পুকুর ইজারা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ প্রধান রাস্তাটি পুকুরে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েও সেতু নির্মাণের কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে নিজেরাই প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাঁকোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। কাঠামোগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সাঁকোটি এখন জীবনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
গ্রামবাসী ইউসুফ, গোলাম ছারোয়ার, মতিয়ার, আশরাফ, বায়জিদ ও খোরশেদ জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সাঁকো পার হতে হয়। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত সবাইকেই এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন জানান, “সাঁকো পার হতে গিয়ে শিশু তহুড়া পানিতে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে এলাকাবাসীর নজরে পড়ে যাওয়ায় সে প্রাণে রক্ষা পায়। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
অন্যদিকে আবুল খায়ের (৮০) বলেন, “সাঁকোর কথা মনে পড়লে বাইরে যেতে ভয় লাগে। প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে যাই না।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অচিরেই সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করে চিরস্থায়ী সমাধান দেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.