যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হুমায়ুন রশীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়িভাড়া ফাঁকি দিতে সুস্থ বাসভবনকে "জরাজীর্ণ" দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, সরকারি বাসভবন ভালো অবস্থায় থাকলেও সেটিকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবে দাবি করে বাড়িভাড়া বাবদ মাসিক ১১ হাজার ২৪০ টাকা কর্তন না করার চেষ্টা করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডা. হুমায়ুন রশীদ ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই আরএমও হিসেবে যোগদান করেন। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ফাইয়াজ আহমদ ফয়সাল চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাদের দুজনের জন্য বরাদ্দকৃত দুটি আলাদা সরকারি বাসভবন রয়েছে, যেগুলো ২০২০ সালে সংস্কার করা হয় এবং বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তা কেউই বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসভবনে বসবাস করছেন না। বরং ডা. ফাইয়াজ আহমদের আবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গত ১ জুন আরএমওর বাসভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই "জরাজীর্ণ ও অনুপযোগী" ঘোষণা করে প্রত্যয়নপত্র দেন।
অথচ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসভবনটি এখনো ব্যবহারযোগ্য এবং এর অভ্যন্তরে এসি পর্যন্ত সচল রয়েছে। তবুও ডা. হুমায়ুন রশীদ এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে গত ১৭ মাসের বকেয়া বেতন থেকে কোনো বাড়িভাড়া কর্তন ছাড়াই সম্পূর্ণ বেতন উত্তোলনের আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমদ বলেন, “স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যেহেতু বাসভবনটি জরাজীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী বাড়িভাড়া কর্তন ছাড়াই বেতন প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।”
তবে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানিয়েছেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িভাড়া কর্তন ছাড়া আরএমওকে বেতন প্রদান করা সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক স্বীকার করেন, “আরএমওর বাসভবনটির কিছুটা মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে।”
ডা. হুমায়ুন রশীদ বর্তমানে দুই বছরের উচ্চতর প্রশিক্ষণে ৮ জুলাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, “বাসভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় আমি বাড়িভাড়া ছাড়াই বেতন পাওয়ার আবেদন করেছি।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং নিয়মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.