শাকিল মাহমুদ বাচ্চু,উজিরপুর (বরিশাল)
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পানের বাজারে হঠাৎ করে ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পানচাষী। বাজারে পানের দাম দিনকে দিন কমতে থাকায় এই কৃষি পেশায় নিয়োজিত কৃষকরা পড়েছেন অর্থনৈতিক সংকটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর, শোলক, বামরাইল ও গুঠিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ পানের চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পানের ভালো দামের আশায় বহু কৃষক পৈতৃক জমিতে পান বরজ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে বাজারে পানের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চাষীরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন।
এক সময় যে পান প্রতি বিড়া ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই পান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০-৬০ টাকায়। অথচ পান বরজ পরিচালনায় খৈল, বাঁশের শলা ও ছাউনি তৈরির ক্যাশির দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ উঠছে না, বরং ধার দেনা করে বরজ মেরামত করতে হচ্ছে চাষীদের।
দক্ষিণ শিকারপুর গ্রামের মো. সিরাজুল মীর বলেন, “আমার পরিবার পান বরজের আয়ে চলে। কিন্তু এখন বাজারে পানের দাম না থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ধার করে বরজ মেরামত করছি, সামনে যদি দাম না বাড়ে, তাহলে পেশা বদল ছাড়া উপায় থাকবে না।”
হস্তিসুন্ড গ্রামের ছালাম বালী জানান, “ভেবেছিলাম লাভ হবে, কিন্তু এখন দেখি লোকসানের মুখে পড়েছি। জমিতে চাষ করে ঋণ বাড়ছে, আয় হচ্ছে না।”
শোলকের চাষী ইসমাঈল হোসেন জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বরজ গড়েছেন, কিন্তু পানের দাম না থাকায় কিস্তি শোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পানের বাজার মন্দার প্রভাবে শুধু চাষীরাই নয়, বরজে কাজ করা হাজারো দিনমজুরও এখন বেকার হওয়ার শঙ্কায়।
জয়শ্রী এলাকার পানের আরৎদার মো. হানিফ হাওলাদার বলেন, “গত ৫০ বছরে এতো কম দামে পান বিক্রি হয়নি। চাষীরা এখন পান বিক্রি করছেন পানির দামে।”
স্থানীয় চাষীদের দাবি, পানের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো এই ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষকরা, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের সৃষ্টি করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.