যবিপ্রবি প্রতিনিধি,রায়হান আহমদ
পরীক্ষা পদ্ধতির বৈষম্য, রিটেক পরীক্ষার নিয়ম পরিবর্তন, বর্ষউন্নয়ন সংক্রান্ত নীতিমালায় অসঙ্গতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৩ জুলাই ২০২৫) বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির (যবিপ্রবিসাস) কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ব্যাচগুলোর জন্য পৃথক পরীক্ষার নীতিমালা থাকলেও শুধুমাত্র ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশেষ একটি অর্ডিন্যান্স প্রণয়ন করা হয়েছে, যা তাদেরকে মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো কোর্সে অকৃতকার্য হয়, তবে তিনি মাত্র একবার রিটেক পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। যদি তিনি রিটেকেও অকৃতকার্য হন, তাহলে প্রতি কোর্সে ৫০০০ টাকা পরিশোধ করে ‘স্পেশাল রিটেক’ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তাও যদি উত্তীর্ণ হতে না পারেন, তবে বর্ষউন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, যেখানে পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর জন্য ৪ বার রিটেক পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে এবং নম্বর বণ্টনেও তারতম্য রয়েছে। যেমন – তাদের ব্যাচে ইন্টার্নাল নম্বর ৩০ ও সেমিস্টার ফাইনালে ৭০ নম্বর থাকলেও, পরবর্তী ব্যাচে ইন্টার্নাল ৪০ এবং ফাইনাল ৬০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, রিটেক পরীক্ষায় ৩.০০ এর উপরে পেলেই ০.২৫ গ্রেড কর্তন হচ্ছে। আগে যেখানে ৩.৭৫ এর উপরে পেলে তবেই কর্তন হতো। এতে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অনুপস্থিত হয় বা সামান্য ভুল করে, তার একাডেমিক রেজাল্ট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন পূর্ববর্তী নীতিমালা মেনেই। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে তাদের ওপর নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক ও বৈষম্যমূলক। মানসিকভাবে তারা প্রস্তুত ছিলেন না বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন – মাশফি চৌধুরী, শেখ আবু সুফিয়ান, মো. জারির আল মারুফ, রাফিদ ইবনে হাসান, রবিউল ইসলাম শিমুল, ফারহান ফুয়াদ সামি, অরবিন্দু কুমার পাল, আব্দুল্লাহ আল হাসিব, তৌফিক ইমরান, রাজিন রহমান, মৃন্ময় মন্ডল, মুনতাসির মাহমুদ, নাজমুল শান্ত ও তানজিল।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান, তাদেরকে পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর নিয়মে ফিরিয়ে নেওয়া হোক এবং সবার জন্য একক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পরীক্ষানীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.